1 Answers

গৌতমদের পরিবারটি বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন যুগের প্রতিচ্ছবি।

প্রাচীন ভারতের আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা অত্যন্ত ব্যাপক ছিল। আর্যরা দীর্ঘদিন এদেশে বসবাস করার ফলে বাংলা অঞ্চলেও এ ব্যবস্থা চালু হয়। হিন্দুদের মধ্যে পেশার ভিত্তিতে মর্যাদার ক্রমানুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এ চারটি বর্ণ ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ পরিচালনা করা ছিল উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের কাজ। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতো। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ ও শাসন করা। ব্যবসা- বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য নিম্ন মর্যাদার কাজ করতো। ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতো। সাধারণত একেকটি বর্ণের মধ্যেই বিয়ে হতো। তবে উচ্চ শ্রেণির বর ও নিম্ন শ্রেণির কনের মধ্যে বিয়ে প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে এসব ব্যাপারে কঠোর নিয়ম চালু হয়। প্রাচীনকালে বাঙালি মেয়েদের গুণাবলির সুখ্যাতি ছিল। তারা লেখাপড়া শিখত। তবে বিধবাদের নিরামিষ আহার করতে হতো। তাদের সাজসজ্জা এবং সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো। অনুরূপ বিষয় উদ্দীপকেও লক্ষণীয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত গৌতম চক্রবর্তীর বাবা গ্রামের মন্দিরে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন। তার দুই বোন লেখাপড়া শেষ করে বাড়িতেই থাকে। গৌতমের বিধবা পিসি পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্যের ব্যাপারে কঠোর নিয়ম পালন করেন। তাই বলা যায়, গৌতমের পরিবার বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন যুগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

4 views

Related Questions