1 Answers

জাউদ্দীপকের যুদ্ধের ঘটনা প্রাচীন বাংলার উত্তর ভারতীয় যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সপ্তম শতকে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক ছিলেন শশাংক। তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে প্রতিবেশী অঞ্চলে রাজ্য বিস্তার শুরু করেন। উত্তর ভারতে এ সময় দুজন শক্তিশালী রাজ্য ছিল। একটি পুষ্যভূতি রাজবংশের অধীনে থানেশ্বর এবং অন্যটি মৌখরী রাজবংশের অধীনে কান্যকুব্জ (কনৌজ)। থানেশ্বরের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীর সঙ্গে কনৌজের মৌখরী রাজা গ্রহবর্মনের বিয়ের মধ্যে দিয়ে শশাংকের বিরুদ্ধে কনৌজ-থানেশ্বর জোট গড়ে ওঠে। শশাংক গুপ্তদের চিরশত্রু মৌখরীদের উৎখাত করার সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হন। এজন্য তিনি মালবরাজ দেবগুপ্তের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হন। থানেশ্বরের রাজা প্রভাকর বর্ধনের পুত্র রাজ্যবর্ধন দেবগুপ্তকে পরাজিত করে কনৌজের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় শশাংকের সঙ্গে তার যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে রাজ্যবর্ধন পরাজিত হন।

উদ্দীপকের ঘটনাটিও উত্তর ভারতীয় যুদ্ধের ঘটনার অনুরূপ। কেননা এখানেও দেখা যায়, রবিন গুপ্ত নামে এক রাজাকে প্রতিহত করার জন্য পার্শ্ববর্তী দুইটি রাজবংশ বিবাহবন্ধনের মাধ্যমে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। যুদ্ধে দুই পক্ষের লোকজন হতাহত হলেও রবিন গুপ্তকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের যুদ্ধের ঘটনা প্রাচীন বাংলার থানেশ্বর- কনৌজ জোট ও শশাংকের মধ্যকার যুদ্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

5 views

Related Questions