পানাম নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন তুর্কি শাসকের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
পানাম নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তুর্কি শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে শাসক হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি শাসনকার্যের সুবিধার্থে রাজধানী দেবকোট হতে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য বসনকোট নামক স্থানে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। লখনৌতি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসা- বাণিজ্যের সুবিধা ছিল। তাছাড়া ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন, শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনীর পক্ষে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব হবে না। তাই তিনি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে এর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করেন। এছাড়াও তিনি তার রাজ্যকে রক্ষাকল্পে বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে প্রাচীন বাংলার সুলতাদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। সে সময় সুতা ব্যবসায়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে পানাম নগর। এ নগরের নিরাপত্তার জন্য এর চারদিকে পরিখা খনন করা হয়। পানাম নগরের এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে পূর্বে আলোচিত সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির গৃহীত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, পানাম নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তুর্কি শাসক গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।