1 Answers

উদ্দীপকের লতার কর্মকান্ডে আমার পাঠ্যপুস্তকের ইংরেজ শাসনামলের মনীষী বেগম রোকেয়ার চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।
বিশ শতকের শুরুর দিকে যখন ভারতের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে বাঙালি মুসলমান নারীরা তখনও পিছিয়ে ছিল। তারা সমাজের সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। লেখাপড়া শেখা তাদের জন্য একরকম নিষিদ্ধই ছিল। সমাজে ধর্মের নামে তাদের পর্দার আড়ালে গৃহবন্দী করে রাখা হতো। এ সময় বেগম রোকেয়া মুসলমান নারীদের এই বন্দিদশা থেকে মুক্তির ডাক দেন। তিনি তৎকালীন গোঁড়া মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের প্রতি অবহেলা-বঞ্চনার করুণ চিত্র তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে থাকেন। রোকেয়ার 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'মতিচুর', 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে সে চিত্রই ফুটে উঠেছে। বেগম রোকেয়া তার স্বামীর মৃত্যুর পর নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য বিহারের ভাগলপুরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রোকেয়া ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনী অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার নেতৃত্বে এ সমিতি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের লতা তার এলাকার সুবিধাবঞ্চিত, নির্যাতিত, স্বামী পরিত্যক্ত, যৌতুকের শিকার নারীদের পাশে থেকে আইনি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে। লতার মতো বেগম রোকেয়াও বিশ শতকে অধিকারবঞ্চিত নারীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেন। তাই বলা যায়, লতার কর্মকান্ডে বেগম রোকেয়ার চিন্তা- চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।

5 views

Related Questions