1 Answers
ইতিহাসের মহান ব্যক্তি হাজী মুহম্মদ মহসীনের জনহিতকর কার্যাবলি ও উদ্দীপকের মাদার তেরেসার জনহিতকর কার্যাবলির মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপকের মাদার তেরেসা তার নোবেল প্রাপ্তির সমস্ত টাকা অসহায় মানুষের উদ্দেশ্যে ব্যয় করেন। তিনি দরিদ্র ও কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পক্ষান্তরে হাজী মুহম্মদ মহসীন তার বোনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ-সম্পদ দরিদ্র মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন। তিনি হুগলীতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও হাজী মুহম্মদ মহসীন ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ইত্যাদি স্থানের মাদ্রাসার উন্নতির জন্য প্রচুর অর্থ দান করেন। মৃত্যুর ছয় বছর আগে ১৮০৬ সালে তিনি একটি ফান্ড গঠন করেন। ঐ তহবিলের অর্থে ১৮৩৬ সালে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় এবং ১৮৪৮ সালে ইমামবাড়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া হুগলী, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয়। মহসীন ফান্ডের বৃত্তির অর্থে হাজার হাজার মুসলমান তরুণ উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পায়।
উপরের আলোচনা শেষে মাদার তেরেসা ও হাজী মুহম্মদ মহসীনের কার্যাবলির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদার তেরেসার কার্যাবলি ছিল অসহায় মানুষকে উদ্দেশ্য করে, আর হাজী মুহম্মদ মহসীনের কার্যাবলি ছিল অসহায় মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে।