1 Answers
দৃশ্যপট-২-এর ব্যাবিলন শহরটির সাথে সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত শহরের পার্থক্য রয়েছে।
দৃশ্যপট-২-এর ব্যাবিলন শহরটি একটি বাণিজ্য নগরী। এর কেন্দ্রস্থলে ছিল চারদিকে ঘেরা বাজার। তার মধ্যে মালপত্র মজুদ করার আড়ত থাকত। বাজারের চারপাশে থাকত কারিগর, মাঝিমাল্লা ও মুটেদের কুঁড়ে ঘর। এগুলো তৈরি করা হতো মাটি ও খড় বিচালি দিয়ে।
সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত শহরগুলোর মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ছিল সবচেয়ে বড় শহর। বাড়িঘরের নকশা থেকে অনুমেয় সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিল। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একই রকম ছিল। এগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখে বোঝা যায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উঁচু ভিতের উপর শহরগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। শহরগুলোর এক পাশে উঁচু ভিত্তির উপর একটি করে নগরদুর্গ নির্মাণ করা হতো। চারদিক থাকত প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত। নগরের শাসনকর্তারা নগর দুর্গে বসবাস করতেন'। প্রশাসনিক বাড়িঘরও দুর্গের মধ্যে ছিল। দুর্গ বা বিরাট অট্টালিকা দেখে মনে হয় একই ধরনের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা যুগ যুগ ধরে নগর দুটিতে প্রচলিত ছিল। এছাড়া সিন্ধু সভ্যতায় সমাজে শ্রেণিবিভাগ ছিল। সমাজ ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। কৃষকেরা গ্রামে বসবাস করত। শহরে ধনী এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা-আলাদা বাসস্থানের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত শহর এবং ব্যাবিলন শহরের তুলনা করলে প্রতীয়মান হয়, এ দুইটি সভ্যতার শহরের মধ্যে কতিপয় পার্থক্য রয়েছে।