1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি কবি শামসুর রাহমানের অবদান আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে।
কবি শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক অনন্যসাধারণ নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কোলকাতার বিখ্যাত দেশ পত্রিকায় লিখতেন। তার রচিত কবিতা বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। তার রচিত বন্দী শিবির থেকে, স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা ইত্যাদি কবিতাগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছে। তার রচিত 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা আর কতকাল ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়' মুক্তিযুদ্ধে কবির উদ্দীপ্ত উচ্চারণে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে সাহস সঞ্চারিত করেছিল। তার যুদ্ধকালীন লেখা কাব্যগ্রন্থ 'বন্দী শিবির থেকে' এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাত্মতা, নিজের বন্দীত্বের বেদনা ও মুক্তির স্বপ্ন এ কবিতাগুচ্ছকে দিয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য কাব্যের গৌরব। এছাড়াও কবি মুক্তিযুদ্ধপূর্বে ১৯৬৮ সালের দিকে পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালুর প্রতিবাদে রচনা করেন 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'। ১৯৬৯ সালে রচনা করেন 'আসাদের শার্ট' কবিতা। এসব রচনাগুলোও বাঙালির মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে নিঃসন্দেহে কবি শামসুর রহমানের রচনা অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে। তার মতো লেখকদের লেখনীতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।