1 Answers
উদ্দীপকে স্মরণসভায় তারামন বিবি নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে এ নারী সমাজের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের জন্য বাঙালিরা অনেক দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করা হয়। আর এক্ষেত্রে তারামন বিবির মতো নারী সমাজের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিক তারামন বিবির স্মরণসভার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নারী সমাজের অবদান সম্পর্কে জানতে পারে। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ মা-বোন। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী। তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারিভাবে তাদের 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৬ সালে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।