1 Answers
জনকল্যাণকর কর্মকাণ্ড ও স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে উক্ত সুবাদার অর্থাৎ শায়েস্তা খানের অবদান অনস্বীকার্য- মন্তব্যটি যথার্থ।
শায়েস্তা খান ছিলেন একজন সুদক্ষ ও দূরদর্শী শাসক। বিভিন্ন জনহিতকর কাজের জন্য তিনি বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। উদ্দীপকের জনি চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে শায়েস্তা খানের শাসনামলের ঠিক বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের জনি চেয়ারম্যান রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু নির্মাণসহ কোনো জনহিতকর কাজে অবদান রাখেননি। বরং তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চড়া মূল্য নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে, শায়েস্তা খানের আমলে রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সরাইখানা, রাস্তা, সেতু নির্মিত হয়েছিল। তার সময়ে দ্রব্যমূল্য এতই কম ছিল যে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
দেশের অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে সুবাদার শায়েস্তা খান ব্যাপক সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। তার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্যও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ঢাকা নগরীতে নির্মিত বিচিত্র সৌধমালা স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তার গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে। তার আমলে নির্মিত স্থাপত্যকর্মের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধি সৌধ, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য তার শাসনকালকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, জনকল্যাণমূলক কাজ ও স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে উক্ত সুবাদার অর্থাৎ শায়েস্তা খান ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন।