1 Answers
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ভবন মালিকের কর্মকাণ্ড মোটেও যৌক্তিক ছিল না বলে আমি মনে করি।
কারণ ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভবনে যে ধরনের ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন তা ছিল না। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ রয়েছে। বড় ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যূনতম প্রস্তুতি নেই। নাজুক উদ্ধার তৎপরতার কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই ঢাকায় মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অসহায়ভাবে মৃত্যুর শিকার হতে পারে লাখ লাখ মানুষ। উদ্দীপকের ঘটনায় এমনটাই প্রতিফলিত হয়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অধিক বহুতল ভবন, খোলা জায়গার অভাব, সরু গতিপথ ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি বাড়ছে। ভূমিকম্পের জন্য যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া উচিত তা হলো- যারা নতুন বাড়ি তৈরি করবেন তাদেরকে স্ট্রাকচার ও ডিজাইন করার সময় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে হবে এবং দক্ষ প্রকৌশলীর তদারকির মাধ্যমে ভালো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে বাড়ি তৈরি করতে হবে। ইটের তৈরি দেয়াল করলে ৪ তলার উপরে ভবন না করা, ভবন দোতলার বেশি হলে প্রতিটি কোনায় ইটের মাঝখানে খাড়া ইস্পাতের রড ঢোকাতে হবে। প্রত্যেক জানালা ও দরজার পাশ দিয়ে খাড়া রড ঢোকাতে হবে। এ সতর্কতা অবলম্বন করলে ইটের দেয়ালের ভবনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। গ্রামাঞ্চলের টিনের ঘরগুলোর ভূমিকম্পে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবে মাটির দেয়ালের বাড়িঘরে ভূমিকম্প প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এজন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ক্লোনাকুনিভাবে বাঁশ বা কাঁঠের ব্রেসিং ব্যবহার করা যেতে পারে। সুতরাং বলা যায়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ভবন মালিক এসব বিষয় অনুসরণ না করার কারণেই তার ভবনটি হেলে পড়েছে। তাই তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে যৌক্তিক ছিল না বলা যায়।