1 Answers
উক্ত জমিদার অর্থাৎ বারোভূঁইয়াদের কর্মকাণ্ড সাহসিকতাপূর্ণ হলেও তা খুব বেশি প্রশংসনীয় নয়।
বাংলার বারোভূঁইয়া জমিদারগণ নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। কারণ তারা মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি। এমনকি কেন্দ্রীয় কোনো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধলে তারা মুঘল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সৈন্য ও নৌবহর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাদের এ কাজ সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রকাশ করলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, একটি রাজ্যের মধ্যে বসবাস করতে হলে কেন্দ্রীয় শাসন মেনেই বসবাস করতে হয়। যদি তা একেবারেই জনবিরোধী না হয়। কিন্তু বারোভূঁইয়াদের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তারা শুধুমাত্র স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই, এমন কাজ করতেন। যদিও বারোভূঁইয়ারা অল্প কিছু সময় বাংলা শাসন করেছেন। কিন্তু ঈসা খান ব্যতীত আর কেউই তেমন সফল ছিলেন না। কেননা, তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। পরবর্তীতে অন্য বারোভূঁইয়া জমিদারগণ মুঘলদের সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে টিকে থাকলেও তা খুব বেশি সময় নয়। অবশেষে মুসা খানের মুঘলদের কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলার বারোভূঁইয়াদের শাসনের অবসান ঘটে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলার বারোভূঁইয়াদের কর্মকাণ্ড বীরত্বপূর্ণ হলেও তা খুব প্রশংসনীয় নয় বলে আমি মনে করি।