1 Answers
উদ্দীপকের ২য় ঘটনায় সুদীপ্তের দ্বারা রাজা রামমোহন রায়কে নির্দেশ করা হয়েছে। রাজা রামমোহন রায়ের কর্মকাণ্ড বাংলার নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল।
উদ্দীপকে সুদীপ্তের গ্রাম শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে সে গ্রামে একটি স্কুল স্থাপন করে। সুদীপ্ত মনে করে, নতুন সমাজ গঠনে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তার এই কর্মকান্ড ও চিন্তা চেতনার সাথে উপরে আলোচিত রাজা রামমোহন রায়ের কর্মকাণ্ড সাদৃশ্যপূর্ণ।
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন অসাধারণ পণ্ডিত ব্যক্তি। আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন। ভারতীয় জনগণের জন্য ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এ কারণে তিনি নিজে সংস্কৃত পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও ১৯২৩ সালে প্রস্তাবিত সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। ১৮২২ সালে তিনি কোলকাতায় 'অ্যাংলো হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংরেজি, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান পড়াবার ব্যবস্থা ছিল। এ দেশবাসীর জন্য সংস্কৃত শিক্ষার বদলে আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্টকে চিঠি লেখেন। তাছাড়া ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ইংরেজ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১ লক্ষ টাকা তিনি সংস্কৃত ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যয় না করে আধুনিক শিক্ষায় ব্যয় করতে আবেদন করেন। রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন সফল সমাজ সংস্কারক।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, রাজা রামমোহন রায়ের সংস্কারমূলক নানা কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বাংলার নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল।