1 Answers
না, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বৈষম্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেনি। বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বৈষম্য মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতার আসল নিয়ন্তা হয়ে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। প্রথম থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের শিকার হতে থাকে।
১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় ৯৫৪ জন কর্মকতার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়, তাতে ৬০% পাঞ্জাবি, ৩৫% পাঠান এবং মাত্র ৫% পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য অংশ ও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এমনকি বাঙালির মুখের ভাষার ওপরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল।
এছাড়া পাকিস্তান শাসনামলে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানিদের ওপর বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করেছে। যার ফলে বাঙালিরা ক্রমাগত শোষণ বঞ্চনা থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের দেশ স্বাধীন করেছে।