1 Answers
উদ্দীপকে 'ক' সম্প্রদায়ের মতো উক্ত চুক্তি অর্থাৎ বেঙ্গল প্যাক্ট মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছিল বলে আমি মনে করি।
অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি এবং সমাজে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের দলিল ছিল বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি। এই চুক্তির কারণেই মুসলমানদের আস্থা অর্জন করে স্বরাজ পার্টি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে সক্ষম হয়। ১৯২৩ সালের অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের নির্বাচনে স্বরাজ দল বাংলায় ৩৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২১টি এবং হিন্দু এলাকায় ৪৭টির মধ্যে ৩৬টি আসন লাভ করে।
বেঙ্গল প্যাক্টের ফলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলমান সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের এই পদক্ষেপ ছিল বাস্তবধর্মী। তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়। ১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মূল বিষয় ছিল অনগ্রসর মুসলমানদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা। এতে সরকারি দপ্তরে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ চাকরি সংরক্ষিত রাখা হয়। আরো বলা হয়, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয়ে আইন পাশ করতে হলে আইনসভায় নির্বাচিত উক্ত সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। বেঙ্গল প্যাক্টের শর্ত অনুযায়ী কোলকাতা কর্পোরেশনে ২৫ জন মুসলমান চাকরি পায়। এই চুক্তির ফলে ব্যবস্থাপক পরিষদ, কলকাতা কর্পোরেশনসহ প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থাগুলোতে মুসলমানরা বেশি পরিমাণে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর ফলে মুসলিম নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ হয়।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বেঙ্গল প্যাক্ট মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছিল।