1 Answers
উক্ত দাবিনামা অর্থাৎ ৬ দফা দাবি ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ আচরণ এবং নির্যাতন-নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ৬ দফা দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সব অধিকারের কা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য ছিল ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে পাকিস্তান সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী একটি কনফেডারেশনে পরিণত হবে। এ দাবি বাঙালির জাতীয় চেতনার মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন এ কর্মসূচিকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে, তখন তা সমগ্র জাতিকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এ দাবির সমর্থনে আন্দোলনকারীদের নির্যাতন এবং দমনপীড়ন চালাতে থাকে। কিন্তু এ নির্যাতন ও দমনপীড়ন জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। এমতাবস্থায় বাঙালিদের উপলব্ধি হয়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালিদের আত্মাধিকার ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করছে। আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আর পূর্ণ স্বাধীনতা ব্যতীত পূর্ণ অধিকারও পাওয়া যাবে না। এরূপ মনোভাব ও উপলব্ধি স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।