1 Answers

"উদ্দীপকটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সমগ্র বিষয় ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। 

দারিদ্র্যের কশাঘাতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অশান্তি বিরাজ করে। অভাবের তাড়নায় মানুষ অন্যায় পথে পা বাড়ায়। তখন প্রকৃতির করুণা প্রার্থনা করে মানুষ আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক গ্রামীণ জীবনে নিম্ন আয়ের এক ব্রাহ্মণ পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা ও টানাপড়েন তুলে ধরেছেন। এতে হরিহর ও সর্বজয়ার অভাবের সংসারে অপু ও দুর্গা নামের দুই সন্তানের প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবন প্রতিফলিত হয়েছে। এই গল্পের হরিহর-সর্বজয়ার সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। উদ্দীপকের কবিতাংশে গ্রামীণ জীবনে আসমানিদের যে অভাব ও দুঃখ-দারিদ্র্যের বর্ণনা রয়েছে তা এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সংসারে নিত্য অভাব এবং জীবনযাপনের করুণ অবস্থা ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে গল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের মিল নেই। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের মধ্যে ভাব ও আনন্দের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা উদ্দীপকের আসমানির মধ্যে নেই।

'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে দারিদ্র্য সত্ত্বেও সন্তানস্নেহের দিক থেকে সর্বজয়া একজন শাশ্বত পল্লিজননী। স্বামীর স্বল্প আয়, সংসারের অসচ্ছলতা, পাওনাদারদের তাগাদা সত্ত্বেও সে অপু-দুর্গাকে গভীর মমতায় আগলে রাখে। হরিহর দরিদ্র হলেও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ। সদগোপদের মন্ত্র দিতে তখনই রাজি হয় না। অপু-দুর্গার দুরন্তপনা, আম কুড়ানো, প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি বিষয় গল্পে থাকলেও উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions