1 Answers
মিশরীয় সভ্যতার স্থাপত্য-ভাস্কর্য ও লিখনপদ্ধতি অনেক উন্নত ছিল। বক্তব্যটি যথার্থ।
প্রাচীনকালে মিশরে চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্য শিল্প গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। তারা সমাধি আর মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়ে চিত্রশিল্পের সূচনা করে। সমাধি, পিরামিড, মন্দির, প্রাসাদ, প্রমোদ কানন, সাধারণ ঘরবাড়ির দেয়ালে মিশরীয় চিত্রশিল্পীরা অসাধারণ ছবি এঁকেছেন। এসব ছবিতে মিশরের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের কাহিনি ফুটে উঠেছে। ভাস্কর্য শিল্পে মিশরীয়দের মতো অসাধারণ প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। প্রতিটি শিল্পই ছিল আসলে ধর্মীয় শিল্পকলা। মিশরীয়দের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় স্ফিংক্স। স্ফিংক্সের দেহটা সিংহের মতো দেখতে হলেও মুখটা ছিল মানুষের মতো। মিশরীয়রা মনে করত, মৃত ব্যক্তি পুনরায় জীবিত হবেন। এ বিশ্বাস থেকে তারা মৃতদেহ মমি করে পিরামিডে সংরক্ষণ করত। বিশালাকারের পাথর খন্ড কেটে পিরামিডগুলো তৈরি করা হতো। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। এর আয়তন ছিল তের একর এবং উচ্চতা ৪৫০ ফুট।
মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব নগর সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথেই ঘটে। প্রথম দিকে মিশরীয়রা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত, তার নাম ছিল চিত্রলিপি। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে সর্বপ্রথম মিশরীয়রাই ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। মিশরীয় চিত্রলিপিকে বলা হতো 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর। যা ব্যবহার হতো ধর্মীয় বাণী এবং রাজার আদেশ প্রচারের জন্য। মিশরীয়রা লেখা ডান দিক থেকে শুরু করে বাম দিকে শেষ করতো।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, মিশরীয় সভ্যতা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য এবং লিখন পদ্ধতিতে অনেক উন্নত ছিল।