1 Answers
লিখন পদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কারে উক্ত সভ্যতা অর্থাৎ মিশরীয় সভ্যতার অবদান অনস্বীকার্য।
প্রাচীন সভ্যতার উন্নয়নে মিশরীয়দের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মিশরীয়দের ধর্মীয় চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি, কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা সবকিছুই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ। মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবদান হলো লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। প্রথমদিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। মিশরীয়দের এই চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় রসেটা স্টোন নামে একটি পাথর। আবিষ্কৃত হয় যাতে গ্রিক এবং 'হায়ারোগ্লিফিক' ভাষায় অনেক লেখা ছিল। এই পাথরের লেখা থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা যায়। মিশরীয়রা কাগজ আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। সেই কাগজের উপর তারা লিখত। গ্রিকরা এ কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'। পরবর্তীতে এই প্যাপিরাস শব্দ হতেই ইংরেজি 'পেপার' শব্দের উৎপত্তি।
পরিশেষে বলা যায়, লিখন পদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কারে মিশরীয় সভ্যতার অবদান অবিস্মরণীয়। মিশরীয়রা তাদের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, কবিতা, গান, ধর্মকথা সংরক্ষণ করার জন্য এই লিখন পদ্ধতি ও কাগজের আবিষ্কার করেছিল।