1 Answers

বাংলায় মুঘল স্থাপত্য ও শিল্পকলার বিস্তারের ক্ষেত্রে শায়েস্তা খানের নাম উল্লেখযোগ্য'- উক্তিটি যথার্থ।
মুঘল আমলে বাংলার শাসকগণ স্থাপত্য ও শিল্পকলায় বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্মৃতিস্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। আজও বাংলার বিভিন্ন স্থানে তাদের শিল্পপ্রীতির নিদর্শন বিদ্যমান। মুঘল শিল্পকলা ও স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে শায়েস্তা খানের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। লালবাগের কেল্লা আজও শায়েস্তা খানের শাসনকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তার শাসনকালের পূর্বেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিনি এটি শেষ করার পদক্ষেপ নেন। এ দুর্গের ভেতর আছে শায়েস্তা খানের কন্যা 'বিবি পরির সমাধি সৌধ'। মার্বেল পাথরে নির্মিত এ সমাধি ভবনটি এখন পর্যন্ত এদেশে সর্বাধিক সুন্দর মুসলিম স্মৃতিসৌধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোসেনী দালান, চকবাজারের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত শায়েস্তা খানের মসজিদ ও সাত গম্বুজ মসজিদের সাথে শায়েস্তা খানের নাম জড়িয়ে আছে। বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তার গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মুঘল স্থাপত্য ও শিল্পকলা বিস্তারে শায়েস্তা খান অপরিসীম অবদান রেখেছিলেন।

6 views

Related Questions