1 Answers
"উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব উপমহাদেশের ইতিহাসে পলাশির যুদ্ধ অপেক্ষাও বেশি”- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
বক্সারের যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য স্থায়ীভাবে অস্তমিত হয়। ত্রিশক্তি জোটকে পরাজিত করায় ইংরেজদের প্রভাব, প্রতিপত্তি, মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ইংরেজ শক্তি অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলা তথা উপমহাদেশের সর্বত্র ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে থাকে। এ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখণ্ডে পালিয়ে যান। দিল্লির সম্রাট শাহ আলম ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন এবং মীর কাশিম আত্মগোপন করেন। ইংরেজরা অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে কারা ও এলাহাবাদ হস্তগত করতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধের ফলে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ অধিকার আইনত স্বীকৃত হয় এবং তারা অসীম ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে থাকে।
১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজদের প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব উদ্ধারের শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
উপরের আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, উপমহাদেশের ইতিহাসে পলাশি যুদ্ধ অপেক্ষা বক্সারের যুদ্ধ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।