1 Answers
মিজান সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা ভারতবর্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন অর্থাৎ স্বদেশী আন্দোলনের জন্ম দেয়।
ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থি অংশের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে স্বদেশী আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি- বয়কট ও স্বদেশী। বয়কট আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। ক্রমে ক্রমে বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রও' গড়ে ওঠে। স্বদেশী আন্দোলন ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানে স্থানে সমিতির মাধ্যমে বিলেতি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের শপথ নেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্যে সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলা এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করতে থাকেন। ফলে বিলেতি পণ্যের চাহিদা কমে যেতে থাকে। একই সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ সময় দেশি তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে। স্বদেশী আন্দোলনে তাৎক্ষণিক সফলতা না এলেও এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণসচেতনতা তৈরি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মিজান সাহেব মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য শপিংমলে গিয়ে ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন দেশের প্রসাধনী দেখে ক্ষুব্ধ হন। তিনি দেশীয় তাঁত শাড়ি, জামদানি এবং দেশীয় প্রসাধনী কেনেন, যা উপরে বর্ণিত স্বদেশী আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের সর্বস্তরের সচেতন মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ভারতবর্ষে স্বদেশী আন্দোলনের জন্ম দেয়।