1 Answers
উদ্দীপকটি ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। দেশ বিভাগের পরই এ আন্দোলনের বীজ উপ্ত হয়েছিল।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়। দেশভাগের আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। মুসলিম লীগের নেতারা একমাত্র উর্দুর পক্ষে মত দিলে পূর্ব বাংলার লেখক, বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানান। এমন প্রেক্ষাপটেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
উদ্দীপকে ১৯৫২, স্মৃতির মিনার, প্রভাত ফেরি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসব শব্দ ও শব্দগুচ্ছ দেখা যায়। এগুলো ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত তথ্যকে নির্দেশ করছে। ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এ বছরের ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো গঠিত 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' এর আহ্বানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে পৃথক বক্তৃতায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করেন। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে ভাষা আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। দেশজুড়ে প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ চলতে থাকে। ১৯৫২ সালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তব্যে জিন্নাহর কথার প্রতিধ্বনি হলে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপ লাভ করে।