1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়বস্তু পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভান্না আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে মিছিল করতে গিয়ে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন। তাদের স্মরণে রচিত হয় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি..." গানটি এবং নির্মিত হয় শহিদ মিনার। তখন থেকে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এদিন  আমরা খালি পায়ে শহিদ মিনারে যাই এবং ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। উদ্দীপকে সে ঘটনারই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

4 views

Related Questions