1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতের নীল বিদ্রোহের ইঙ্গিত পাই। এ বিদ্রোহ ইংরেজ কর্তৃক বাংলার কৃষকদেরকে নীল চাষে বাধ্য করার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়।
ইংল্যান্ডে বস্ত্রশিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটলে কাপড় রং করার জন্য সেখানে প্রাকৃতিক নীলের চাহিদা খুব বেড়ে যায়। এ নীলের জোগান দিতে ইংরেজরা বাংলার উর্বর জমিতে নীল চাষ শুরু করে। এ জন্য ইংরেজ বণিক বা নীলকররা কৃষকের সর্বোৎকৃষ্ট জমি বেছে নিত। কৃষকদের নীল চাষের জন্য অগ্রিম অর্থ (দাদন) গ্রহণে বাধ্য করা হতো। নীল চাষের কারণে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য ফসলের চাষ ব্যহত হয়। নীল চাষে কৃষকরা রাজি না হলে তাদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হতো। নীলকররা এতটাই নিষ্ঠুর আর বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, নারাজ চাষিদের হত্যা করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেনি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে কৃষকরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। ১৮৬০ সালে এ বিদ্রোহ চরম রূপ ধারণ করে, যা ভারতের ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের সামিনা শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে তার বড় ভাই অভিনীত 'নীলদর্পণ' নাটকটি দেখে তার পাঠ্যবইয়ের একটি ঘটনার মিল পায়। সামিনা মূলত তার পাঠ্যবইয়ের নীল বিদ্রোহ ঘটনার মিল খুঁজে পায়। কেননা, দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' নাটকটি এই নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ব্রিটিশ ভারতের নীল বিদ্রোহের মিল রয়েছে।

6 views

Related Questions