1 Answers

উদ্দীপকে জনাব রহমত আলী ব্রিটিশ ভারতের 'বেঙ্গল প্যাক্টের' অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস। ফলে বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য এই দূরদর্শী বাস্তববাদী নেতা যে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন ইতিহাসে তাই বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত। নিঃসন্দেহে তার এই প্রচেষ্টা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। উদ্দীপকের ঘটনা ঐ চুক্তিরই প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রহমত আলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার ইউনিয়নের প্রধান দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ লেগেই থাকে। রহমত আলী দুটি সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন কাজের কোটা নির্ধারণ করে দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির সঙ্গে বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯২৩ সালে বাংলার ইতিহাসের প্রধান ঘটনাই ছিল বেঙ্গল প্যাক্ট। সি. আর. দাস ফর্মুলা নামে খ্যাত বেঙ্গল প্যাক্টে অনগ্রসর মুসলমানদের কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়াই ছিল এর মূল বিষয়। বেঙ্গল প্যাক্ট ছিল বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের মিলনের জন্য একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এ চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্ত ছিল স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যেক জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় শতকরা ৬০টি আসন পাবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৪০টি আসন। স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলার প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ অধিকার পাবে। সরকারি দপ্তরে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ চাকরি সংরক্ষিত থাকবে। ধর্মীয় বিষয়ে আইন পাস করতে হলে আইনসভায় নির্বাচিত উক্ত সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ সমর্থন থাকতে হবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বেজাল প্যাক্টের কথাই ফুটে উঠেছে।

4 views

Related Questions