1 Answers

উদ্দীপকে যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো ৬৯-এর গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান। কারণ ৬৯-এর গণআন্দোলনেই আসাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কবি হেলাল হাফিজ তাঁর স্মরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত এ কবিতাটি রচনা করেছিলেন।

'৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি একটি মাত্র ঘটনা থেকে সংঘটিত হয়নি। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। মূলত ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি যখন পশ্চিম পাকিস্তানিরা মেনে না নিয়ে উল্টো দমনপীড়ন শুরু করে তখন আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে আগরতলা মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে কারাগারে প্রেরণ করে, বাঙালি তখন আর দমে থাকতে চায়নি। শুরু হয় সাধারণ জনগণসহ ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে কেন্দ্র করে ১৯৬৮ সালে ছাত্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এ অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক কৃষক ও নিম্ন আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের নিকট। আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবি তুলে সাধারণ মানুষ একযোগে পথে নামেন। ছাত্রসমাজসহ জনগণের এই ক্রোধ থামাতে আইয়ুব সরকার হত্যার পথ বেছে নেয়। একে একে হত্যা করা হয় আসাদসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাকে। পাশাপাশি আরও অনেককেই হত্যা করা হয়। অর্থাৎ পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর নিপীড়ন ও বঞ্চনা এবং তার বিপরীতে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামসহ পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে ওঠা আন্দোলন '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছিল। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে। অতএব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উপরিউক্ত ঘটনাপ্রবাহের আলোকেই '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

 

5 views

Related Questions