1 Answers
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ অনেকে শহিদ হন। এই ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহিদ মিনার। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আমরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করি। উদ্দীপকের প্রামাণ্যচিত্রেও দেখা যায়, কিছু মানুষ খালি পায়ে একটি বেদিতে ফুল দিচ্ছে। তাদের এই ফুল দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো ৬৬ বছর আগে বাঙালির প্রাণের দাবি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এ আন্দোলনটি হলো ভাষা আন্দোলন।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও একে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে বাঙালির ওপর প্রথম আঘাতই আসে তাদের মাতৃভাষার ওপর। পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে তারা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সমাজ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়। তারা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবি জানায়। ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন সারা দেশব্যাপী ব্যাপক রূপ লাভ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন। তাদের প্রাণের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।