1 Answers
নার্গিসের মতো বঞ্চিত নারীদের কল্যাণে সুলতানা বেগমের মতো মহীয়সীদের প্রয়োজন যুগে যুগেই রয়েছে।
উদ্দীপকের সুলতানা বেগম মূলত বিশ শতকের মহামনীষী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই প্রতিচ্ছবি। বিশ শতকের শুরুতে বাঙালি নারীরা ছিল শিক্ষা ও অধিকারবঞ্চিত। সমাজে ধর্মের নামে তাদের পর্দার আড়ালে গৃহবন্দী করে রাখা হতো। মেয়েদের এই বন্দিদশা থেকে বেগম রোকেয়া মুক্তির ডাক দেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তার সাহিত্যচর্চার বিষয়বস্তুও ছিল নারী সমাজকে নিয়ে। সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা-বঞ্চনার করুণ চিত্র তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। যা উপলব্ধি করেছেন, তাই তার লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে নারীদের করুণ দশা দেখাতে চেয়েছেন, দেখাতে চেয়েছেন তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী', 'মতিচুর', 'পদ্মরাগ', 'সুলতানার স্বপ্ন'- এসব গ্রন্থে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।
নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য বেগম রোকেয়া সর্বদাই তার চেষ্টাকে অব্যাহত রেখেছেন। শুধু সাহিত্য কিংবা লেখনীর মাধ্যমে নয় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমেও তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়, কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল এবং আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নারী শিক্ষা, সচেতনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, ঘুণে ধরা সমাজের পরিবর্তন ও অবহেলিত বঞ্চিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার মতো মহীয়সী নারীদের যুগে যুগে প্রয়োজন রয়েছে।