1 Answers

উক্ত ঘটনা তথা বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব প্রথম প্রকাশিত হলে পূর্ববাংলার অধিকাংশ মুসলমান উন্নয়নের প্রত্যাশায় একে আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করে। কারণ, ইতোপূর্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার অধিকাংশ কোলকাতাকে ঘিরে হয়েছে। তাই পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায় শিক্ষা-দীক্ষা এবং প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় বঙ্গভঙ্গের প্রতি সমর্থন জানায়।
অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। শিক্ষিত বাঙালি হিন্দুরা অনুভব করে যে, বঙ্গভঙ্গ হলো রাজনীতিতে অগ্রসর বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর জাতীয় চেতনা ও সংহতির ওপর লর্ড কার্জনের পরিকল্পিত আঘাত। বঙ্গভঙ্গকে তারা মাতৃভূমি বাংলার অঙ্গচ্ছেদ হিসেবেও দেখে। 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল এসোসিয়েশন'- এর প্রতিষ্ঠাতা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি বঙ্গভঙ্গকে 'জাতীয় দুর্যোগ' বলে আখ্যায়িত করেন। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায় তীব্র ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে। জমিদারসহ অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অনেক হিন্দু প্রাধান্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন। সংখ্যায় কম হলেও একদল শিক্ষিত উদারবাদী মুসলমানও বাংলাকে ভাগ করার বিরোধিতা করেন। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে কবি-সাহিত্যিকেরাও বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন প্রমুখ। বঙ্গভঙ্গের পর থেকে ভারতে হিন্দু- মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বাংলার মানুষের মধ্যে একধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে সাদরে গ্রহণ করলেও হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

5 views

Related Questions