1 Answers
পাণ্ডিত্য, শিক্ষাবিস্তার, সমাজ-সংস্কার ও ব্যক্তি হিসেবে তেজস্বিতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। নিজে প্রবাদপ্রতিম মেধার অধিকারী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা তথা ভারতের শিক্ষা বিস্তারে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি, অলঙ্কার ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি মাত্র একুশ বছর বয়সেই ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্বও পালন করেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্য সাহিত্যকে নবজীবন দান করেন। এজন্য তাকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের জনক বলা হয়। শিশুদের লেখাপড়া সহজ করার জন্য তিনি রচনা করেন বর্ণপরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষাকে সহজ করার জন্য তিনি ব্যাকরণ বই রচনা করেন। এছাড়া তিনি অনেক গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন।
সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন এবং নারী শিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা বিদ্যাসাগরের অক্ষয় কীর্তি। স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে তিনি গ্রামগঞ্জে ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কলকাতার মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন। বর্তমানে এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত। বিদ্যাসাগর বহু অনাথ ছাত্রকে তার বাসায় রেখে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতেন। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত একসময় চরম অর্থকষ্টে পড়লে বিদ্যাসাগর তাকে প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন। কবি নবীনচন্দ্র সেনও তরুণ বয়সে বিদ্যাসাগরের অর্থে লেখাপড়া করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, শিক্ষা বিস্তারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অপরিসীম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়ন, সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, নারী শিক্ষার প্রসার এবং স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শিক্ষাবিস্তারে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন।