1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে গীতা ও রাসুর মতো অনেক নারীই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অপরদিকে, সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা- শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা। উদ্দীপকের রাসু ও গীতা তেমনি দুই চরিত্র। আপেল মাহমুদের গাওয়া গানের অনুপ্রেরণায় তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং রাজবাড়ী জেলার সজ্জনকান্দা গ্রামে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তারা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবাও করতেন। গীতা ও রাসুর মতো হাজারো বাঙালি নারী এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের পথকে ত্বরান্বিত করেন। আবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছিলেন প্রায় তিন লক্ষ নারী। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারিভাবে তাদের 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এভাবে বাঙালি নারীর ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের বহুল প্রত্যাশিত স্বাধীনতা।