1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত তথ্যগুলো ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নাগরিক জীবনে সচেতনতার তাৎপর্য অপরিসীম।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিককে অধিকার ও কর্তব্য, সরকারের ধরন ও কার্যাবলি, সুশাসন, স্থানীয় প্রশাসন প্রভৃতি সম্পর্কে সচেতন করে। এই সচেতনতার ফলে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে উৎসাহিত হয়। নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়।
গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ প্রভৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কার্যকর করার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা না থাকলে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হবো তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করতে পারব না। নাগরিক সচেতনতা না থাকলে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা, সন্তানদের শিক্ষিত করা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোটদান প্রভৃতি যথাযথভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে না। সর্বোপরি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা যাবে না। রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। আমাদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, যে সকল সমস্যা অতি সহজে সমাধান করে, যার বিবেক আছে সে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী সে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে। এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের বলা হয় সুনাগরিক, যা দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, সংবিধান নাগরিক জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য সচেতনতা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।