1 Answers
রিপন আয়োডিনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত।
মানুষের দেহে আয়োডিনের পরিমাণ ১২-১৫ মিলিগ্রাম। শরীরের পুষ্টির জন্য আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় লেশমৌল। দুই-তৃতীয়াংশ আয়োডিন থাকে থাইরয়েড গ্রন্থিতে। আয়োডিন শিশুর দেহের স্বাভাবিক বর্ধনের জন্য প্রয়োজন। আয়োডিন দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিকাশে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে রিপন তার ফুলে থাকা গলা নিয়ে স্কুলে যেতে অস্বস্তিবোধ করে। এছাড়া তার তোতলামি, আলসেমি, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা আয়োডিনের অভাবে হয়ে থাকে।
খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলো-
(১) গলগণ্ড বা গয়টার: আয়োডিনের অভাব হলে গলগণ্ড হয়। এ রোগে আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি হতে পারে না। ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন তৈরির জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করে বলে গ্রন্থিটি বড় হয়ে যায়। ফলে বাইরে থেকে গলা ফোলা দেখা যায়। এছাড়া এই রোগে বুদ্ধি ও চলনশক্তি হ্রাস, মানসিক অক্ষমতা, তোতলামি মাংসপেশির সংকোচন, স্নায়বিক দুর্বলতা এসব লক্ষণ প্রকাশ পায়।
(২) হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা হ্রাস): দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরক্সিন হরমোন তৈরি না হলে এই অবস্থাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। এর লক্ষণ হলো- আলসেমি, শুকনা চামড়া, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। এর প্রভাবে ছোট শিশুরা মানসিক প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়।
(৩) ক্রেটিনিজম (হাবাগোবা ও বামনত্ব) দেখা দিতে পারে।
তাই বলা যায়, খাদ্যে আয়োডিনের অভাব থাকলে উক্ত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।