1 Answers
কৃষিজ ফসল উৎপাদনে 'ফ' চিহ্নিত অঞ্চল অপেক্ষা 'ব' চিহ্নিত অঞ্চল সহায়ক বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম বদ্বীপ। সমগ্র বাংলাদেশ সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল, সীমিত উঁচু ভূমি এবং নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে গঠিত। উদ্দীপকে 'ফ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং 'ব' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত। প্লাবন সমভূমি কৃষিজ ফসল উৎপাদনে অধিক সহায়ক। আর টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহে ছোটবড় পাহাড়-পর্বত "পরিলক্ষিত হয়। এসব এলাকার মাটি উর্বর নয়। তাছাড়া এবরো- থেবরো মাটিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। অপরদিকে, সমতল ভূমির ওপর দিয়ে অসংখ্য নদনদী বয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর বন্যার পানির সাথে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং খুবই উর্বর। উর্বর এ ভূমিতে সহজেই চাষাবাদ ও কৃষিকার্য পরিচালনা করা যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশের সমভূমি হিমালয় পর্বতের পলল দ্বারা গঠিত যা কৃষিকাজের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় ও স্রোতজ সমভূমি বিশেষ কিছু কৃষিজাত দ্রব্যের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। মোটকথা, সমভূমির উর্বরাশক্তির আধার হওয়ায় তা কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষিজ ফসল উৎপাদনে 'ফ' চিহ্নিত অঞ্চল অপেক্ষা 'ব' চিহ্নিত অঞ্চল সহায়ক।