1 Answers

"উক্ত ভাষণ অর্থাৎ ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসে এক কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করে”- মন্তব্যটি যথার্থ।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধু এ সমাবেশে যে ভাষণ দেন তা বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। তার নির্দেশ অনুসারে দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়া খান টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করেন। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণ অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রহসনের আলোচনায় বসেন। নেপথ্যে চলতে থাকে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। কিন্তু তিনি গ্রেফতার হওয়ার কিছু আগেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

পরিশেষে তাই বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করে। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে জায়গা করে নেয় আমাদের বাংলাদেশ।

4 views

Related Questions