1 Answers
দৃশ্যপট-২ অনুযায়ী প্রাচীন গ্রিসেই গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।
গ্রিসের এথেন্স শহরকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। সারা বিশ্বে আজ যে গণতন্ত্রের জয়জয়কার তার ভিত্তিমূল তৈরি হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের শাসকবর্গের হাত ধরেই। তারাই প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনায় এই গণতান্ত্রিক ধারা সূচনা করেছিলেন এবং সময়ের পরিক্রমায় তা আজ হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা। গ্রিসে গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করেন অভিজাত বংশে জন্ম নেওয়া খ্যাতিমান শাসক 'সোলন'। তবে তার সময়ে গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু তার গৃহীত ব্যবস্থাগুলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বার অনেকাংশেই উন্মুক্ত করে দেয়। যেমন 'সোলন' গ্রিক আইনের কঠোরতা হ্রাস করার পাশাপাশি কৃষকদের ঋণ থেকে মুক্ত করার জন্য আইন পাস করেন। তার এ পদক্ষেপগুলো নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পেছনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সোলনের পর জনকল্যাণে এগিয়ে আসেন পিসিসট্রেটাস এবং ক্লিসথেনিস। তারাও জনকল্যাণে অনেক আইন পাস করেন। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় পেরিক্লিসের সময়। পেরিক্লিসের রাজত্বের ৩০ বছরে তিনি নাগরিকদের সব রাজনৈতিক অধিকারের দাবি মেনে নেন এবং এ সময় তিনি প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এমনকি বিচারের দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি নাগরিকদের মধ্য থেকে জুরি নিযুক্ত করতেন। এ বিষয়গুলোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যে গণতন্ত্র পাওয়ার জন্য মানুষ প্রতিদিন সংগ্রাম করছে, সেই গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে। উদ্দীপকের এ বক্তব্যের সত্যতা প্রতিভাত হয়ে উঠে উপরের আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে। উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, গণতন্ত্রের সূচনা প্রাচীন গ্রিসেই হয়েছিল।