1 Answers
শিক্ষক বলেন, 'আরমানের মনোস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণই পারে তার উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে'। তাঁর মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রত্যেক শিশুর মধ্যে মনোস্তাত্ত্বিক চাহিদা থাকে যেগুলোকে ইংরেজিতে three A's for happiness এবং বাংলায় সুখের তিনটি 'স' দিয়ে বোঝানো হয়।
স- স্বীকৃতি - A- Acceptance
স-স্নেহ -A -Affection
স- সাফল্য - A- Achievement
এখানে, স্বীকৃতি হলো শিশু যেমন তাকে সেভাবেই গ্রহণ করা। অর্থাৎ, শিশু দেখতে সুন্দর বা অসুন্দর, পঙ্গু বা স্বাভাবিক, বৃদ্ধি কম বা বেশি, ছেলে বা মেয়ে যেমন হোক তাকে সেভাবে গ্রহণ করতে হবে। স্নেহ হলো- শিশুর যত্ন, পরিচর্যা, তাকে সময় দেওয়া, কিছু শেখানো ইত্যাদি সবকিছু যদি আদর, ভালোবাসার সাথে হয় তাহলে শিশুর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি আসে। তখন সে তার পরিবেশকে ভয় পায় না। সাফল্য বলতে এখানে বোঝায়, শিশুর কাজের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা হলে সে বুঝতে পারবে যে, সে কী কী করতে পারে। এই উৎসাহ তাকে সফলতার অভিজ্ঞতা দেয়। এর ফলে সে পরিতৃপ্ত ও সুখী থাকে।
আরমান চঞ্চল বলে সবাই তাকে বকা দেয়। হাতের লেখা খারাপ ও বানান ভুল হয় বলে সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে না। এজন্য তার পড়ালেখায় উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। কিন্তু আরমান কে বকাঝকা না করে বোঝাতে হবে। হাতের লেখা সুন্দর ও বানান নির্ভুল করার জন্য তাকে সময় নিয়ে শেখাতে হবে, তাকে আদর করতে হবে। তাহলে তার মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে। তার ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করতে হবে। তাহলে সে বুঝতে পারবে যে, সে ভালো কিছু করতে পারে। এভাবেই উৎসাহ, আদর-যত্ন তাকে পরিতৃপ্ত ও সুখী করবে।
সুতরাং, আরমানের মনোস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণই তার উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ শিক্ষকের মন্তব্যটি যথার্থ।