1 Answers

"পূর্ব-পাকিস্তানের নেতারা দৃশ্যপট-২-এর উল্লেখিত নতুন রাজনৈতিক জোটের নেতাদের মতো কৌশল গ্রহণ করায় বাঙালি নেতৃত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল"- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল, মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-প্রজা পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং হাজী দানেশ্বর বামপন্থী গণতন্ত্রী দল এর সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুলভোটে জয়লাভ করে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক ও ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির এক ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা পূর্ব বাংলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথকে সুগম করে। কারণ অনেক তরুণ নেতার কাছে মুসলিম লীগের বড় বড় নেতাদের পরাজয় ঘটে। এছাড়া যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ আসন লাভ ভবিষ্যতে তাদের পূর্ব বাংলায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত নন্দীপুর ইউনিয়নের 'প্রগতি' নামক সংগঠন
বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করলে গ্রামের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন দল ও জোট গঠন করে। পরবর্তী নির্বাচনে তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নতুন এই জোটের মতই পূর্ব বাংলার নেতারা জোটবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল। এর ফলে তারাও ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক জোটে যুক্তফ্রন্ট গঠন করায় বাঙালি নেতৃত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল।

5 views

Related Questions