1 Answers
উদ্দীপকের রমা চৌধুরীর মতো আরো অনেক নারীর ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারীদের গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তাদের মধ্যে ছাত্রীরাই বেশি। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল-মিটিং ও গণসমাবেশ করে পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের রমা চৌধুরী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হন এবং দুই শিশুপুত্রকে হারান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এ রকম অসংখ্য নারীর আত্মত্যাগ ও ভূমিকা রয়েছে। যুদ্ধের নয় মাস কয়েক লক্ষ মা-বোন পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হন। এদের বাইরে বিরাটসংখ্যক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার, সেবা দিয়ে ও অস্ত্র লুকিয়ে রেখে সহায়তা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দু'জন নারী বীরপ্রতীক খেতাব অর্জন করেছেন। সারাদেশে আরও অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবেলা করেছেন। পাশাপাশি মুক্তাঞ্চলে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে নারী-পুরুষ সংস্কৃতিকর্মীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল।