সজীবের মনোভাব আমাদের দেশীয় শিল্প বিকাশে অন্তরায়"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
'সজীবের মনোভাব আমাদের দেশীয় শিল্প বিকাশে অন্তরায়'- উক্তিটি যথার্থ।
দেশীয় শিল্পের বিকাশে জনগণকে তার নিজ দেশের পণ্যের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। তবেই দেশীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং ফলাফলস্বরূপ দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে। কিন্তু জনগণ যদি দেশীয় পণ্যের পরিবর্তে বিদেশি পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হয় তবে বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা কমে যাবে। দেশীয় শিল্প সামনের দিকে এগোবে না। ব্রিটিশ ভারতের স্বদেশী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বিলেতি অর্থাৎ বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। স্বদেশী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষের জনগণ বিলেতি পণ্য ব্যবহার ব্যাপকভাবে বর্জন করেছিল। এতে বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পায়। এসময় ভারতজুড়ে তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি, চামড়া ইত্যাদি দ্রব্যকেন্দ্রিক ছোট বড় বহু কারখানা গড়ে ওঠে। কুটির শিল্পেরও সম্প্রসারণ ঘটে। অর্থাৎ স্বদেশী আন্দোলনের ফলে দেশীয় শিল্পের যে প্রসার ঘটেছিল তার মূলে ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জামিল তার বিয়েতে দেশীয় পণ্য কিনতে চাইলে তার বন্ধু সজীব বাধা দেয়। সজীব জামিলের বিয়ের জন্য বিদেশি পণ্য কিনতে আগ্রহী। সজীবের বিদেশি পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। কারণ বিদেশি পণ্যের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা কমে যাবে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, দেশীয় পণ্যের প্রতি যদি নিজ দেশের জনগণের আগ্রহ না থাকে তবে দেশীয় পণ্য বিক্রি হবে না। দেশীয় শিল্পের বিকাশ হবে বাধাগ্রস্ত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিদেশি পণ্যের প্রতি সজীবের আগ্রহ দেশীয় শিল্পের বিকাশে অন্তরায়।