1 Answers

'পণপ্রথা বা যৌতুক হিন্দু সমাজের সর্বনাশের মূল'- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

যৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে কনের অভিভাবক কর্তৃক প্রদেয় অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী। হিন্দু আইনে যৌতুককে নারীর সম্পত্তির উৎস বলা হয়। এতে তার নিরঙ্কুশ অধিকার স্বীকৃত। হিন্দু সমাজে নারীরা পুরুষদের মতো একইভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। তাই অনেক আগে থেকে হিন্দু সমাজে নারীদেরকে বিয়ের সময়ে যৌতুক দেওয়ার প্রচলন ছিল। কালক্রমে তা বিয়ের পণ হিসেবে আবির্ভূত হয় যা একসময় কনে পক্ষের জন্য এক কষ্টকর রীতি হয়ে দাঁড়ায়। এ রীতি আজও অনেক ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রচলিত। এ রীতির কারণে হিন্দু অনেক পরিবারের মেয়েদের সঠিক সময়ে বিয়ে হচ্ছে না। কারও কারও আজীবন কুমারীই থাকতে হচ্ছে। আবার যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের পরিবারেও যৌতুকের জন্য সবসময় ঝগড়া-বিবাদ লেগে আছে। অনেক পরিবারে দেখা যাচ্ছে যৌতুকের কারণে নারীরা শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আবার কোনো ক্ষেত্রে যৌতুকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে না পেরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এজন্য পণপ্রথা বা যৌতুক প্রথাকে হিন্দু সমাজের সর্বনাশের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ।

4 views

Related Questions