1 Answers

"উদ্দীপকে 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সমগ্র অনুভূতি দৃশ্যমান।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মানুষকে শোষণ করে আসছিল। বাঙালিরা তাদের সেই শোষণ থেকে মুক্ত হতে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে, ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতা দাবি করে। ন্যায্য দাবি হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কিছুতেই তা মেনে নেয় না। তারা অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর দমন-পীড়নের নীতি অবলম্বন করে।

উদ্দীপকে আসাদের মৃত্যুতে তাঁর স্বজনরা শোকের পরিবর্তে শত্রুর প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করেছে। তাদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পীড়ন- নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের জন্য তারা তৎপর হয়েছে। এখানে আসাদের মৃত্যুর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা সাহসী জননী বাংলা কবিতার মূলভাবের সঙ্গে অভিন্ন। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের যে ইচ্ছা উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত কবির ইচ্ছার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুর অত্যাচারের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে।

'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায় মাতৃভূমির বীরত্বপূর্ণ দেশপ্রেমের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য তার সন্তানেরা হাতে তুলে নিয়েছিল গ্রেনেড, রাইফেল। তারা বাংলা মায়ের অপমানের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিয়েছে। শত্রুদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিয়েছে, কান কেটে দিয়েছে, অর্থাৎ পরাজিত করে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছে। প্রতিশোধের এই দিকটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির মা আসাদের মৃত্যুতে শত্রুদের অভিসম্পাত না করে, আর্তনাদ না করে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এভাবে উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিশোধস্পৃহা এক ও অভিন্ন। এসব কারণে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions