1 Answers
যোগসাধনা মুক্তিলাভের একটি বিশেষ উপায়। মুক্তিলাভের জন্য প্রথমে প্রয়োজন আত্মোপলব্ধি। আর এই আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও শান্ত মন। এজন্য শরীর ও মনকে উপযোগী করতে হয়। যোগ দ্বারা ইন্দ্রিয় এবং মনের নিগ্রহ হয়, যোগী যম-নিয়মাদি অষ্টাঙ্গ যোগের অভ্যাসের দ্বারা সার্বিক আনন্দময়, শান্তিময়, পরম চৈতন্য আত্মা এবং পরমাত্মা পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়ে ওঠেন। যোগী পুরুষ সতত প্রসন্নচিত্ত। তিনি প্রগাঢ় নিদ্রাসুখতৃপ্ত ব্যক্তিদের ন্যায় প্রশান্তিসম্পন্ন হয়ে সর্বদা শান্তির রাজ্যে আনন্দের অমিয় সাগরে ভাসেন। তিনি নির্বাক নিষ্কম্পে প্রদীপের মতো স্থির এবং তিনি জগতের কোনো আসক্তি, কোনো মমতাতেই বিচলিত হন না। দেহ অবসানে তিনি মোক্ষলাভ করে পরম ব্রহ্মে বিলীন হন। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার প্রবেশ ঘটে, সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। ধ্যানের উচ্চ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংকার শূন্য নিরাময় অবস্থাপ্রাপ্ত হন। তখন পরমাত্মার সঙ্গে তার মিলন ঘটে। তখন তার আমি বা আমার জ্ঞান থাকে না, কারণ তখন তার দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ। সাধক তখন প্রকৃত যোগ লাভ করেন।