1 Answers

"উদ্দীপক ও 'পল্লিজননী' কবিতায় শুধু মিল নয়, অমিলও রয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ। 

পৃথিবীতে সন্তানের জন্য বাবা-মা সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন। এমনকি নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে হলেও বাবা-মা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। সন্তানের সব বিপদে তার পাশে থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন বাবা-মা।

উদ্দীপকে মতিন সাহেব সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। পুত্র লতিফকে বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের একটি কিডনি দান করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মতিন সাহেবের সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 'পল্লিজননী' কবিতায় গ্রামবাংলার এক দুঃখী মায়ের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সন্তানের অসুস্থতায় সেই মা সারা রাত শিয়রে বসে সন্তানের সেবা করেছে। দরগায় মানত করেছে, রাত জেগে নিজের সাধ্যমতো সেবা-যত্ন করেছে। খোদার কাছে ছেলের রোগমুক্তি কামনা করেছে। এছাড়া সন্তানের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা সে করে উঠতে পারেনি। কারণ সে গ্রামবাংলার নিতান্ত, অভাবী, দুঃখী ও অসহায় এক মা। ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তার ছিল না। তাই ছেলের পাশে বসে নীরবে অশ্রুসিক্ত হয়েছে। আর প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের মধ্যে সন্তানকে হারানোর আশঙ্কা করেছে।

উদ্দীপকের মতিন সাহেব সন্তানের প্রতি তার সর্বোচ্চ ত্যাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। 'পল্লিজননী' কবিতায় সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসারও কমতি ছিল না। উদ্দীপকের মতিন সাহেবের মতো আর্থিক সচ্ছলতা তার ছিল না। আবার মতিন সাহেব কবিতার জননীর মতো পল্লিগ্রামের দুঃখী-অসহায় মায়ের যে পরিস্থিতি তার শিকার হননি। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'পল্লিজননী' কবিতায় শুধু মিল নয়, অমিলও রয়েছে।

4 views

Related Questions