1 Answers
"বৈদিক দেবতা ও পৌরাণিক দেবতা"- উক্তিটির যথার্থতা নিচে নিরূপণ করা হলো-
বৈদিক দেবতা: বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে তাদেরকে বৈদিক দেবতা বলা হয়। যেমন- অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র, রুদ্র বরুণ, বায়ু সোম প্রভৃতি। বৈদিক দেবী হিসেবে সরস্বতী, ঊষা, অদিতি, রাত্রি নাম উল্লেখ করা যায়। বৈদিক দেব-দেবীর কোনো বিগ্রহ বা মূর্তি ছিল না। তবে বৈদিক মন্ত্রে দেবতার রূপ, গুণ ও ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে। বৈদিক পূজা পদ্ধতি ছিল যোগ বা হোমভিত্তিক। বৈদিক উপাসনা রীতিতে প্রতিমা পূজা ছিল না। হোমানল করে বা অগ্নির মাধ্যমে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে অন্যান্য দেবতাকে আহ্বান করা হতো।
যজ্ঞের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নিতে বিভিন্ন দেবতার জন্য ঘৃত, পিঠে, পায়েস প্রভৃতি অর্পণ করা হতো। বৈদিক ঋষিরা বিশ্বব্রহ্মান্ডের। কর্মকাণ্ডকে একটি বৃহৎ যজ্ঞ বলে মনে করতেন। তাই তাদের যজ্ঞকর্ম বিশ্বযজ্ঞের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ সময় যজ্ঞই ছিল প্রধান ধর্মকর্ম। যজ্ঞের মাধ্যমে বৈদিক ঋষিরা দেব-দেবীর সান্নিধ্য লাভ করতেন।
পৌরাণিক দেবতা: পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের পৌরাণিক দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী প্রভৃতি।
পৌরাণিক যুগে বৈদিক দেবতাদের অনেকেরই রূপের পরিবর্তন ঘটেছে এবং অনেক নতুন দেবতার আবির্ভাব ঘটেছে। বেদে উল্লেখিত বিষ্ণুকে পুরাণে দেখা যায় শঙ্খ-চক্র-গদাধারীরূপে। কিন্তু বেদে বিষ্ণুর আকৃতি ও প্রকৃতি মন্ত্রময় ও প্রাকৃতিক শক্তি মাত্র।
সুতরাং বলা যায় যে, "বৈদিক দেবতা ও পৌরাণিক দেবতা"- উক্তিটি যথার্থ।