1 Answers

মিজান সাহেব ও তার বড় ভাইয়ের জাতীয়তাবাদী চেতনাপুষ্ট মনোভাব এবং পরিবারের ভূমিকার ফসলেই অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিরা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়। তারা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাঙালিরা রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিদের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়। পরবর্তী সময়ে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঘটে এর চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করলে বাঙালিরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, শিল্পী- সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। নারীরাও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার, তথ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। কিছুসংখ্যক নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। এভাবে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিরা জয় লাভ করে।
উদ্দীপকেও লক্ষণীয় যে, মিজান সাহেব তার ছেলেকে বাংলা ভাষায় • পড়াশোনা করানো, কবিতা ও গান শেখানো প্রভৃতি কাজ করছেন যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই তার ভাই মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের গান গেয়ে মানুষকে উৎসাহিত করেছেন। তার স্ত্রীও গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ ও অসুস্থ যোদ্ধাদের সেবা করেছেন। এভাবে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মিজান সাহেব ও তার পরিবারের সদস্যদের মতো দেশের সর্বস্তরের জনগণের অবদানের ফলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

4 views

Related Questions

মাতৃভাষা মানুষের সবচেয়ে প্রিয় এবং তা মনোভাব প্রকাশের জন সবচেয়ে বেশি উপযোগী । অন্য কোন ভাষায় মনোভাব প্রকাশ করে পরিপূর্ণ আনন্দ পাওয়া যায় না। প্রথিবীতে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য অসংখ্য ভাষার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক জাতির মাতৃভাষার নিজস্ব একটা বৈশিষ্ট্য আছে এবং মাতৃভাষার সাঙ্গে এমন একটি আত্মিক সম্পর্ক থাকে যে, সেই ভাষাই তার মনোভাব প্রকাশের সর্বোত্তম বাহন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিদেশী ভাষা কষ্টে আয়ত্ত করা গেলেও তার মর্ম যথার্থ উপলব্ধি করা যায় না িএবং তাতে মনোভাব প্রকাশেরর যথেষ্ট অন্তরায় থাকে। তাই পৃথিবীতে অসংখ্য ভাষার মধ্যে মাতৃভাষাই সবচেয়ে আপনি এবং মনোভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ পন্থা। বাঙালিদের কাছে বাংলা ভাষাই মনোভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কারণএটি বাঙালির মাতৃভাষা । বাঙালির রক্তে মাংসে মজ্জায় বাংলা ভাষা মিশে আছে। বাঙালিরা পরভাষা চর্চা করে বেট, কিন্তু বাংলাতেই তার যত স্বচ্ছন্দ্য। (Translation Bengali to English)
1 Answers 6 Views