1 Answers
জনাব আরাফাতের মতো স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করলে বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। যুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সংস্কৃতিকর্মীর অবদান ছিল প্রশংসনীয়। এমনকি অনেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পত্র-পত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা, এম আর আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল যুগিয়েছে। যুদ্ধে বহু বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। ছাত্র- ছাত্রী, কৃষক, প্রবাসী বাঙালি, নারীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অবদান রেখেছেন। সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার, সেবা ও নানা তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আরাফাত একজন কণ্ঠশিল্পী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার রাজপথে এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গান গেয়ে মানুষকে উৎসাহিত করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। আরাফাতের পরিবার তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছিল। এভাবে তার মতো সর্বস্তরের স্বাধীনতাকামী মানুষ বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, সাধারণ জনগণের সাহায্য- সহযোগিতা ও স্বাধীনতার প্রতি ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।