1 Answers
'আনসার আলীর মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা'- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের আনসার আলী বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিচ্ছবি।
যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ গণযুদ্ধে রূপ নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ছাত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় ছাত্র সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া কিশোরও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। যুদ্ধের নয় মাসে কয়েক লক্ষ মা-বোন হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হন। এর বাইরে বিরাট সংখ্যক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র, সেবা দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। গণমাধ্যমও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং দুই লাখের অধিক মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন, যা আত্মত্যাগের বিশাল উপমা। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ অস্ত্রশস্ত্র আর্থিক সাহায্য ও লোকবল দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে, যা আত্মত্যাগের উজ্জল দৃষ্টান্ত। উদাহরণস্বরূপ ভারতের কথা বলা যায়। প্রবাসী বাঙালিরাও অর্থ দিয়ে প্রচার করে এ যুদ্ধে ব্যাপক অবদান রাখেন।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আনসার আলীর মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়েই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।