1 Answers

মোহাম্মদ বোজাজির মতো তরুণরাই বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র পতনের অগ্রনায়ক"- উক্তিটি যথার্থ।

বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, আন্দোলন, সংগ্রাম মোকাবিলা করেছেন স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ। তার শাসনামলে দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়। এসময় জনগণ অধিকার আদায় ও গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
জেনারেল এরশাদ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতনের পথ বেছে নেন। ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। তরুণ ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। এসময় অনেকেই নিহত হন। হরতাল, অবরোধে প্রশাসনে এক প্রকার স্থবিরতা দেখা দেয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে পিঠে "গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক" লেখাসহ নূর হোসেন নামক এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে তরুণ ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন পুলিশের গুলিতে নিহত হলে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এভাবে তরুণদের আত্মত্যাগের ফলে এদেশে স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাগরিক অধিকারবঞ্চিত তরুণ বোজাজি আত্মহত্যা করলে তিউনিশিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলীর বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে স্বৈরশাসক বেন আলীর পতন ঘটে। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বোজাজির মতো তরুণরাই এদেশে স্বৈরতন্ত্র পতনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

4 views

Related Questions