হোসনি মুবারকের পতনের সাথে বাংলাদেশের কোন শাসকের পতনের সাদৃশ্য রয়েছে বলে তুমি মনে কর? (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো- By the people, for the people, of the people. আমি মনে করি গণতন্ত্রকে হত্যাকারী হোসনি মুবারকের পতনের সাথে এদেশের স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের সাদৃশ্য রয়েছে।
সামরিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার বহু নজির এ বিশ্বে রয়েছে। এমনি দুজন ব্যক্তিত্ব মিশরের হোসনি মুবারক ও বাংলাদেশের জেনারেল এরশাদ। এসকল সামরিক শাসকদের ক্ষমতা থেকে বিদায় কখনও সম্মানজনক ছিল না। বরং উক্ত দুজনের বিদায় ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। জনরোষে পড়ে দুজনই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। হোেসনি মুবারকের ৩২ বছরের স্বৈরশাসনামলে যখনই জনগণ প্রতিবাদ জানিয়েছে তখনই তাদেরকে হামলা, মামলা, গুম করে, প্রহসনের বিচার করে, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থেকেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে। ২০১২ সালে গণঅভ্যুত্থানে তাঁর পতন হয়েছে। একই পরিণতি হয়েছিল- এদেশে স্বৈরশাসক ও সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের ক্ষেত্রেও। ক্ষমতার মসনদে থাকার জন্য অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিল পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্বারা। ছলচাতুরির নির্বাচন করে নিজেকে গণতান্ত্রিক শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলার রাজনীতি সচেতন জনগণ তা মেনে নেয়নি।
বিপ্লবী হুংকারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেন তাই দেখা যায়, জনগণের ঐক্যের কাছে সকল শক্তির পরাজয় ঘটে। যেমনটি ঘটেছিল এরশাদ ও হোসনি মুবারকের ক্ষেত্রে।